বিশেষ বিনোদন প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ফিল্ম এনালিস্ট)
ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: ঈদুল ফিতরের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকাই সিনেমায় বইছে নতুন হাওয়া। ঈদের প্রথম দুই সপ্তাহ পাইরেসি আতঙ্কে কেবল মাল্টিপ্লেক্সে বন্দি থাকার পর, অবশেষে আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে দেশের ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে মুক্তি পেল সিয়াম আহমেদের আলোচিত সিনেমা ‘রাক্ষস’। ‘বরবাদ’ খ্যাত পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের এই অ্যাকশন-ভায়োলেন্স ঘরানার ছবিটি এখন মধুমিতা, আনন্দ, শ্যামলীসহ দেশের ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে দাপিয়ে বেড়ানোর জন্য প্রস্তুত।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে সিনেমার সাফল্যের মাপকাঠি বরাবরই ছিল সিঙ্গেল স্ক্রিন বা একক প্রেক্ষাগৃহ।
স্মৃতির পাতা থেকে: নব্বইয়ের দশকে যখন সালমান শাহ বা মান্নার সিনেমা মুক্তি পেত, তখন মধুমিতা বা অভিসারের মতো হলগুলোর সামনে মাইলের পর মাইল লাইন থাকত। সেই সময় ‘পাইরেসি’ শব্দটি আজকের মতো ডিজিটাল ছিল না, ছিল ‘প্রিন্ট চুরি’র ভয়।
২০২৬-এর কৌশল: প্রযোজক শাহরীন আক্তার সুমি যে ‘উইন্ডো রিলিজ’ (আগে মাল্টিপ্লেক্স, পরে সিঙ্গেল স্ক্রিন) পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, তা মূলত হলিউড বা বলিউডের বড় বাজেটের সিনেমার স্ট্র্যাটেজির প্রতিফলন। পাইরেসি রোধে এটি একটি সাহসী ও আধুনিক পদক্ষেপ, যা বাংলাদেশের সিনেমার ডিজিটাল সুরক্ষায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করল।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জলের বক্তব্য অনুযায়ী, ঈদের প্রথম দুই সপ্তাহ সিনেমা হলগুলোতে রাজত্ব করেছে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ: শাকিব খান গত দুই দশক ধরে সিঙ্গেল স্ক্রিনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা। অন্যদিকে, সিয়াম আহমেদ মূলত মাল্টিপ্লেক্স বা শহুরে দর্শকদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। এখন প্রশ্ন হলো—‘রাক্ষস’-এর মতো কমার্শিয়াল ও সহিংসতায় ভরপুর সিনেমা দিয়ে সিয়াম কি মফস্বলের দর্শকদের মন জয় করে শাকিবি সাম্রাজ্যে ভাগ বসাতে পারবেন?
বাজার সম্ভাবনা: প্রদর্শক সমিতির বিশ্বাস, ‘রাক্ষস’ একটি পিওর কমার্শিয়াল সিনেমা হওয়ায় এটি সিঙ্গেল স্ক্রিনে দারুণ ব্যবসা করবে। কারণ, এদেশের সাধারণ দর্শক এখনও পর্দায় মারপিট, নাচ আর ‘পাগলাটে প্রেম’ দেখতেই বেশি পছন্দ করে।
সিনেমাটিতে সিয়ামের বিপরীতে রয়েছেন কলকাতার সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়।
বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ ও কলকাতার শিল্পীদের যৌথ কাজ নতুন কিছু নয়। সত্তরের দশকে ‘অন্যায় অবিচার’ থেকে শুরু করে আজকের ‘রাক্ষস’—দুই বাংলার এই আদান-প্রদান সবসময়ই ঢাকাই সিনেমাকে বৈচিত্র্য দিয়েছে। সুস্মিতার গ্ল্যামার আর সিয়ামের চকোলেট বয় ইমেজ ভেঙে ‘রাক্ষস’ লুকে আসাটা দর্শকদের জন্য বড় চমক। এছাড়া সোহেল মণ্ডলের মতো জাত অভিনেতার উপস্থিতি সিনেমার গভীরতা আরও বাড়িয়েছে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: ‘রাক্ষস’ সিনেমার এই দুই ধাপের মুক্তি প্রক্রিয়া (Two-step Release) যদি সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বড় বাজেটের সিনেমাগুলো পাইরেসি থেকে বাঁচতে এই মডেল অনুসরণ করবে। এটি কেবল একটি সিনেমার মুক্তি নয়, বরং ডিজিটাল যুগে এনালগ প্রেক্ষাগৃহগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার একটি যুতসই লড়াই।
| বিষয় | বিবরণ |
| পরিচালক | মেহেদী হাসান হৃদয় (বরবাদ খ্যাত) |
| প্রধান অভিনয়শিল্পী | সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় |
| মুক্তির ধাপ | ২ সপ্তাহ পর সিঙ্গেল স্ক্রিনে (৩ এপ্রিল থেকে) |
| প্রথম ধাপের হল সংখ্যা | ৩০টি (মধুমিতা, আনন্দ, শ্যামলীসহ) |
| পরবর্তী লক্ষ্য | ১০০+ হল (দ্বিতীয় সপ্তাহে) |
| জনরা | অ্যাকশন, ভায়োলেন্স ও কমার্শিয়াল রোমান্স |
সিয়াম আহমেদ নিজেকে বারবার ভাঙছেন। ‘পোড়ামন ২’-এর সেই রোমান্টিক সিয়াম থেকে ‘রাক্ষস’-এর হিংস্র সিয়াম হওয়ার এই রূপান্তরই তাকে বর্তমান প্রজন্মের সেরা নায়কদের কাতারে রেখেছে। যদি আজ থেকে সিঙ্গেল স্ক্রিনে ‘রাক্ষস’ ভালো ব্যবসা করতে পারে, তবে সিয়াম কেবল মাল্টিপ্লেক্সের ‘পোস্টার বয়’ হয়ে থাকবেন না, তিনি হয়ে উঠবেন গণমানুষের নায়ক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |